হাদীসের আলোকে তিন তালাকে এক তালাক নাকি তিন তালাক: ১
প্রিয় পাঠক! একসঙ্গে তিন তালাকের আরো অনেক হাদীস রয়েছে। আমরা এ পর্বে কেবল সুনানে দারাকুতনী থেকে কিছু হাদীস উল্লেখ করেছি। ইন-শা-আল্লাহ পরবর্তী পর্বে বাকি হাদীসগুলো উল্লেখ করা হবে।
يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو حُمَيْدٍ، قَالَا: نا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَاصِمِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ أُخْتَ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ أَخْبَرَتْهُ، «أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ»، فَأَخْبَرْتُهُ «أَنَّهُ طَلَّقَهَا ثَلَاثًا وَخَرَجَ إِلَى بَعْضِ الْمَغَازِي»
আবদুর রহমান ইবনে আসিম ইবনে সাবিত বলেন, যাহহাক ইবনে কাইসের বোন ফাতিমা বিনতে কাইস আমাকে বলেছিলেন যে, ‘তিনি ছিলেন মাখযুম গোত্রের একজন পুরুষের স্ত্রী। কিন্তু লোকটি তাকে তিন তালাক দিয়ে একটি সামরিক অভিযানে চলে গেছেন।’’ [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২০]
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ «طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تُمَاضِرَ بِنْتَ الْأَصْبَغِ الْكَلْبِيَّةَ وَهِيَ أُمُّ أَبِي سَلَمَةَ ثَلَاثَ تَطْلِيقَاتٍ فِي كَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ فَلَمْ يَبْلُغْنَا أَنَّ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِهِ عَابَ ذَلِكَ»
আবদুর রহমান ইবনে আউফ তার স্ত্রী তুমাযির বিনতে আসবাগ আল-কালবিয়্যাহকে একসঙ্গে তিন তালাক দিয়েছিলেন। তিনি আবু সালামার মা ছিলেন। এবং আমাদের জানা নেই যে তার সঙ্গী-সাথিদের কেউ এ বিষয়ে আপত্তি করেছেন। [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২১]
سَلَمَةُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، «أَنَّ حَفْصَ بْنَ الْمُغِيرَةِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثَلَاثَ تَطْلِيقَاتٍ فِي كَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ، فَأَبَانَهَا مِنْهُ النَّبِيُّ ﷺ وَلَمْ يَبْلُغْنَا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ عَابَ ذَلِكَ عَلَيْهِ».
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে হাফস ইবনে মুগীরাহ তার স্ত্রী ফাতিমা বিনতে কায়সকে একসঙ্গে তিন তালাক দিয়েছিলেন। ফলে নবী ﷺ তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটান। এবং আমাদের জানা নেই যে নবী ﷺ তাকে এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানিয়েছেন। [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২২]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلًا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ أَلْفًا، فَقَالَ: «يَكْفِيكَ مِنْ ذَلِكَ ثَلَاثٌ وَتَدَعُ تَسْعَمِائَةً وَسَبْعًا وَتِسْعِينَ»
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক হাজার তালাক দেন। তখন তিনি বলেন, ‘‘তোমার জন্য এতে তিন তালাকই যথেষ্ট, আর বাকি নয়শো সাতানব্বই তালাক বাতিল।’’ [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২৪]
عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ مَاهَانَ يَسْأَلُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا، فَقَالَ سَعِيدٌ: سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ مِائَةً، فَقَالَ: «ثَلَاثٌ تُحَرِّمُ عَلَيْكَ امْرَأَتَكَ وَسَائِرُهُنَّ وِزْرٌ، اتَّخَذْتَ آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا»
সাঈদ ইবনে জুবাইরকে এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো, যিনি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছেন। সাঈদ বললেন, ‘ইবনে আব্বাসকে এমন একজন ব্যক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যিনি তার স্ত্রীকে একশো তালাক দিয়েছিলেন। ইবনে আব্বাস বলেছিলেন, ‘তোমার স্ত্রীর সাথে তিন তালাকই বৈধ বিচ্ছেদ ঘটায়, আর বাকিগুলো পাপ হিসেবে গণ্য হবে। তুমি আল্লাহর আয়াত নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করছো।’ [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২৫]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ مِائَةً، قَالَ: «عَصَيْتَ رَبَّكَ وَفَارَقْتَ امْرَأَتَكَ لَمْ تَتَّقِ اللَّهَ فَيُجْعَلْ لَكَ مَخْرَجًا»
ইবনে আব্বাস (রা.)-কে এক ব্যক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যিনি তার স্ত্রীকে একশো তালাক দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, ‘তুমি তোমার প্রভুর অবাধ্যতা করেছো এবং তোমার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করেছো। তুমি আল্লাহকে ভয় করোনি, যাতে তোমার জন্য কোনো পথ বের করা হতো।’ [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২৬]
عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي ثَلَاثًا وَأَنَا غَضْبَانُ، فَقَالَ: «إِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَحِلَّ لَكَ مَا حُرِّمَ عَلَيْكَ عَصَيْتَ رَبَّكَ وَحُرِّمَتْ عَلَيْكَ امْرَأَتُكَ، إِنَّكَ لَمْ تَتَّقِ اللَّهَ فَيُجْعَلْ لَكَ مَخْرَجًا، ثُمَّ قَرَأَ ﴿إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ﴾
কুরাইশের এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, ‘‘হে ইবনে আব্বাস! আমি রাগের মুহূর্তে আমার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছি।’’ তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, ‘‘ইবনে আব্বাস তোমার জন্য সেই বিষয় বৈধ করতে পারে না যা তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছে। তুমি তোমার প্রভুর অবাধ্যতা করেছো এবং তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয়েছে। তুমি আল্লাহকে ভয় করোনি, যাতে তোমার জন্য কোনো উপায় বের করা হতো।’’ তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: ‘‘যখন তোমরা নারীদের তালাক দাও, তখন তাদের নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী তালাক দাও।’’ [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২৭]
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي أَلْفًا، قَالَ: «أَمَّا ثَلَاثٌ فَتُحَرِّمُ عَلَيْكَ امْرَأَتَكَ وَبَقِيَّتُهُنَّ وِزْرٌ اتَّخَذْتَ آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا».
এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘‘আমি আমার স্ত্রীকে এক হাজার তালাক দিয়েছি।’’ ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, ‘‘তিন তালাকই তোমার স্ত্রীকে তোমার জন্য হারাম করে দেবে, আর বাকিগুলো পাপস্বরূপ হবে। তুমি আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করেছো।’’ [সুনানে দারাকুতনী: ৩৯২৮]
লুবাব হসান সাফওয়ান
কোন মন্তব্য নেই